

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআবি) অধিভুক্ত বগুড়া জেলার ফাজিল ও কামিল মাদরাসাগুলোকে নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু জাফর খানের বিরুদ্ধে অর্থ উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
‘মাদরাসার উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ওই সেমিনারে অংশ নেওয়া প্রতিটি মাদরাসা থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র।
জানা গেছে, সম্প্রতি বগুড়া জেলার ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্যদের অংশগ্রহণে উক্ত সেমিনারের আয়োজন করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে প্রধান অতিথি করায় শুরু থেকেই ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। মাদরাসা শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস সিদ্দিকীকে অনুষ্ঠানটিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাখা হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যেই দুই উপ-উপাচার্যকে এড়িয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। চাঁদা দাবি ও ‘হাদিয়া’ প্রদান একাধিক সূত্রে জানা যায়, বগুড়া জেলার প্রায় ৪৮টি ফাজিল ও কামিল মাদরাসা থেকে সেমিনার আয়োজনের অজুহাতে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অর্থ তোলার মূল দায়িত্বে ছিলেন মহাস্থান শাহ সুলতান বলখী (রহ.) ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিকী।
অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ‘হাদিয়া’ হিসেবে নগদ প্রায় এক লাখ টাকা এবং ৩০ প্যাকেট বগুড়ার দই দেওয়া হয়। তবে এই অর্থ ও উপহারসামগ্রী কোন তহবিলের অধীনে, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন প্রক্রিয়ায় লেনদেন হয়েছে; তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের মতে, মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠিত ইআবি-র মতো জায়গায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
এ বিষয়ে ইআবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু জাফর খানকে একাধিকবার কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচালনায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে সেমিনারের নামে টাকা উত্তোলন, অর্থের অপব্যবহার এবং উপাচার্যকে ‘হাদিয়া’ দেওয়ার এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।